October 27, 2022

বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ কথা। Bodeshwari Mandir / Shaktipith

 

Bodeshwari mandir

বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ  কথা। Bodeshwari Mandir / Shaktipith  - Boda, Bangladesh. 

লিখেছেন রামকিশোর বর্মন


 প্রাচীন কামরূপ কামতা দুটি শক্তি পীঠের অধিকারী ছিল। 
১. অসমের গৌহাটি সন্নিকটে নীলাচল পাহাড়ে কামাখ্যা মন্দির (Kamakhya Mandir) ষোড়শ শতকে কোচ রাজবংশী মহারাজা নরনারায়ণ - চিলারায় নির্মাণ করেন। মন্দিরটি আজও বিদ্যমান এখানের সতীর গোপনাঙ্গ পতিত হয় । 
২. বৈকুণ্ঠপুর কোচ রাজাদের অধীন বোদার (Boda, Bangladesh) বোদেশ্বরী মন্দিরে (Bodeshwari Shaktipith / Mandir) সতীর হাঁটুর অংশ (patella)  পতিত হয়। অবিভক্ত দিনাজপুরের আখাননগরের ক্ষত্রিয় নেতা প্রেমহরি বর্মনের (Premhari Barman) মূর্খতার জন্য এই স্থানটি (অর্থাৎ পাঁচ থানা- বোদা, দেবীগঞ্জ, পাটগ্রাম, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী) পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে চাকলাবোদা স্টেট, দেবীগঞ্জ, তেতুলিয়ার কিছু অংশ কোচবিহারের কোচ রাজবংশী (Koch Rajbanshi) রাজাদের অধীন ছিল ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।  ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই এলাকায়  ৬০ শতাংশ কোচ রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ ছিল এই এলাকাগুলোতে।  এখনো ২০  থেকে ৩০ শতাংশ কোচ রাজবংশী মানুষ আছে।
Bodeshwari temple Bangladesh


কোচবিহার মহারাজা ও বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ / Coochbehar Maharaja and Bodeshwari mandir


সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কোচবিহারের মহারাজা প্রাণনারায়ণ (Maharaja Pran Narayan of Coochbehar) প্রাচীন অনেক মন্দির সংস্কার করেন। যেমন- জল্পেশ,  গোসানীমারী, বোদেশ্বরী ইত্যাদি)  বিশ শতকে  মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ বোদেশ্বরী মন্দির সংস্কার করেন। বোদায় ( বর্তমান পঞ্চগড় জেলা) গোবিন্দ জীউ মন্দির, দেবীগঞ্জে ১০০ একর জমির উপর নৃপেন্দ্র নারায়ণ ইংলিশ হাই স্কুল, তেঁতুলিয়ায় ডাকবাংলো নির্মাণ করেন।  

আরও একটু অতীতে গেলে  দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকে  পশ্চিম কামরূপের ভিতরগড়-পঞ্চগড়ের কোচ - রাজবংশী রাজা পৃথু শাসনকালে তুর্কি আক্রমণ হয়। নদীয়া জয় করার পর ইখতিয়ার উদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী রাজা পৃথুর কাছে প্রতিহত হয়। বখতিয়ারের তিব্বত জয়ের আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ক্ষতবিক্ষত হয়ে বর্তমান দক্ষিণ দিনাজপুরের দেবকোটে মৃত্যু বরণ করে। (তথ্যসূত্রঃ তবকাৎ-ই- নাসিরি, মীনহাজ সিরাজ) যে স্থান টিতে বখতিয়ার খিলজী প্রতিহত হয়। সেই স্থানটিই হল বোদেশ্বরী। খিলজির ঘোড়া মারা পড়েছিল বলে নদিটির নাম ঘোড়ামারা।  এই স্থানে করতোয়ার ( প্রাচীন তিস্তা) সঙ্গে ঘোড়া মারা নদীর মিলন হয়।  বোদেশ্বরী কোচ রাজবংশীদের কাছে পবিত্র স্থান।  
Bodeshwari Shaktipith boda



বোদেশ্বরী মন্দিরে আক্রমণ / Attack on Bodeshwari mandir


এই বোদেশ্বরী মন্দিরের (Bodeshwari) উপর হামলা হয় ১৯৯২ সালে,  দুস্কৃতীরা একাংশ ভেঙে দেয়।  পরে বাংলাদেশ সরকার কোনোরকমে সংস্কার করে। 
Wel in Bodeshwari



বোদেশ্বরী রাজবংশী সহ স্থানীয় মানুষের কাছে পবিত্র স্থান। মকর সংক্রান্তি বা মাঘী  পূর্ণিমার দিন এখানে পুণ্যার্থীরা স্নান করে মন্দিরে পুজো দেয়। কোচ রাজবংশী রাজারা মৈথিলী ব্রাহ্মণ নিয়োগ করে। এক দশক আগে পর্যন্ত বংশ পরম্পরায় মৈথিলী ব্রাহ্মণ নিয়োজিত ছিল পুজো-অর্চনার জন্য।  বর্তমানে বাঙ্গালী ব্রাহ্মণ সেই দায়িত্ব পালন করছে সেখানে। 
দিন দিন প্রাচীন এই মন্দিরের নিয়ম কানুন বদলে যাচ্ছে। তিন বছর আগে মহালয়ার দিন স্নান শুরু হয় সেখানে।  যার পরিনাম মর্মান্তিক নোকাডুবি । শাক্ত আরাধনার পরিবর্তে বৈষ্ণব আরাধনা শুরু হয়েছে যা শাক্ত পন্থার  বিপরীত।

শতাধিক বছরের ক্ষত্রিয় সমিতি উবাচঃ। Hundred Years of Rajbanshi Kshatriya Samiti.

 

Mohinimohan and bidhan chandra roy

শতাধিক বছরের ক্ষত্রিয় সমিতি উবাচঃ (প্রথম পর্যায়) । Activities of Kshatriya Samiti more than hundred years. 

লিখেছেন : রামকিশোর বর্মন (Ramkishore. Barman)

ramkishore barman
Ramkishore Barman


ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন কালে যূথবদ্ধ  জমিদার গোত্রীয় রাজবংশী সমাজে (Rajbanshi Society) কিম্ভূত মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। গ্রেটার রঙ্গপুর (Rangpur) এবং দিনাজপুর কোচবিহার রাজ্য (Coochbehar state) থেকে বিচ্ছিন্ন হলে এরা স্বীয় ঐতিহ্য এবং প্রাচীন গৌরব বিস্মৃত হয়। এঁরা  নিজের জাতিসত্তা বিসর্জন দিয়ে মেকী ক্ষত্রিয় বর্ম ধারণ করতে সচেষ্ট হল। সময়টা ১৮৯১সাল।  যেই কারণেই হোক  অবশিষ্ট কোচবিহার রাজ্য থেকে ততদিনে বিতাড়িত (১৯০১) পঞ্চানন সরকার  (Panchanan Sarkar) রঙ্গপুর এসে ডেরা বেঁধে অর্জিত বিদ্যার প্রয়োগ করতে লাগলেন।  নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং সমৃদ্ধও হলেন। জাতির জন্য মহান ব্রতে অবতীর্ণ হলেন সমাজের স্বার্থে বহুমুখী কাজে যুক্ত হলেন।

পঞ্চানন সরকার রঙ্গপুরে এসে   খাজাঞ্চী (হরমোহন) মহোদয়ের আগে থেকেই প্রস্তুত করা ক্ষত্রিয় সাইনবোর্ডে নাম লেখালেন! বিশ শতকের গোড়ার দিকে ক্ষত্রিয় আন্দোলন জোরদার হলে জাতিসত্তার উপর বিষবৃক্ষ রোপিত হয় (১৯১২)।  আদি সত্তা কোচ (Koch identity) পরিচয়কে অস্বীকার করে কাষ্ঠ তরবারিধারী ক্ষত্রিয় পরিচয় দিয়ে সন্তুষ্ট থাকা রাজবংশীরা বেশি হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে।  ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ সরকার জরিপ করে  তিনটি ক্যাটাগরিতে জাতির পরিচয় নির্ধারণ করে ছিল। ১  সাধারণ, ২. তপশীলি জাতি. ৩. তপশীলি জনজাতি ( উপজাতি) ..  ক্ষত্রিয়  তো তপশীলি হতে পারে না ! পঞ্চানন বর্মা ব্রিটিশ সরকারের আধিকারিক দের বুঝিয়ে সুঝিয়ে অনুসূচিত জাতির তালিকায়  যুক্ত করলেন। জনজাতির তালিকা ভুক্ত না করে দ্বিতীয় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলেন। ১৯৩৫ এ পঞ্চানন সরকার  ইহলোক ত্যাগ করেন। পঞ্চানন বর্মার  ( সরকার) পথ অনুসরণ কারীরা  ১৯৩৭  এবং ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। জেতেও। ১৯৪৬  তেভাগা আন্দোলনে দিনাজপুরের রাজবংশী কমিউনিস্ট নেতা কম্পরাম সিংহ এবং রূপনারায়ণ রায় ক্ষত্রিয় পার্টি এবং নেতাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে জয়লাভ করে। 

Mohinimohan barman
মোহিনীমোহন বর্মণ - পশ্চিম বঙ্গের প্রথম বনমন্ত্রী (১৯৪৮)


 ১৯৪৬ সালে ব্যাপক হারে  তেভাগায় অবিভক্ত দিনাজপুরের বালিয়াডাঙ্গী, ঠাকুর গাঁও, দিনাজপুর, কাহারোল, পতিরাযম, বালুরঘাট, পার্বতীপুর...   রাজবংশী নর নারীদের  অংশগ্রহণ প্রমাণ করে  ক্ষত্রিয় সমিতি (Kshatriya Samiti) সাধারণ খেটে খাওয়া , প্রান্তিক চাষীদের  সমস্যা পূরণের, বেঁচে থাকার আধার নয়।  বর্তমান ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গির পূর্ণেশ্বরী বর্মণী নামে তেভাগার আন্দোলনের রাজবংশী মহিলা কর্মী শহিদ হন। ক্ষত্রিয় সমিতি  এলিট রাজবংশীদের  সংগঠন।  এই সংগঠনের ন্যাচার  ১০০ বছর উত্তীর্ণ করেও পূর্ববৎ অবস্থাতেই বিদ্যমান। সুবিধা বাদী এই সংগঠন যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের পদলেহন করে ব্যক্তি স্বার্থে প্রয়োগ করে। পঞ্চানন বর্মা (Panchanan Barma) গরীব মানুষের জন্য যতটুকু করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন সবটাই দীর্ঘনাসা  রাজবংশী জোতদার জমিদারের রক্ষাকবচ হিসেবে নয় কী? 

১৯৪৬ সালে রংপুরে র ক্ষত্রিয় নেতা, নগেন্দ্রনাথ রায়, অবিভক্ত দিনাজপুরের জেলার আখা নগররের প্রেমহররি বর্মণ ( বর্তমান  ঠাকুরগাঁও জেলা, বাংলাদেশ), রায়গঞ্জের  শ্যামাপ্রসাদ বর্মণ ( রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, প.ব.) এবং অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলার  (কিছু অংশ কোচবিহারের মহারাজাদের জমিদারি্- চাকলা বোদা দেবীগঞ্জ, পাটগ্রাম, তেঁতুলিয়া, ) বটতলি, মীরগঞ্জ, বোদার, (বর্তমান পঞ্চগড় জেলা,  বাংলাদেশ) মোহিনীমোহন বর্মণ ক্ষত্রিয় পার্টির নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। শেষের তিনজনের শ্বশুর বাড়ি ছিল ( তিনজনেই আইনজীবী) বিহারের পূর্ণিয়া জেলার চুরলির জমিদার বাড়ি (স্ট্যাট) বর্তমান কিষানগঞ্জ জেলা, ঠাকুরগঞ্জ মহকুমা বিহার)।  

বেঙ্গল  প্রভিন্স এ ১৯৪৬-৪৭ সালের নির্বাচনে ২৫ জন তপশীলি জাতির (রিজার্ভ হিসেবে ) প্রার্থী জয়লাভ  করে। উত্তরের নগেন রায় সহ তিন বর্মণ ক্ষমতা শালী ছিলেন। ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময় বরিশালের  আইনবিদ  যোগেন মণ্ডল পাকিস্তানের পক্ষে  নগেন রায় এবং প্রেমহরি বর্মণকে বাগিয়ে নেন।  আইনবিদ, দীর্ঘদেহী ( বিধানসভার  মধ্যে উচ্চতম) মোহিনী মোহন বর্মণ জলপাইগুড়ি শহরের বাড়িতে অবস্থান করেন। গ্রামের বাড়ি পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে পরে। তিনি পশ্চিম বঙ্গের প্রথম বিধান সভায় বন মন্ত্রী এবং পাঁচজনের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন (১৯৪৮ )।  ১৯৪৮ সালে  কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হন বিধান চন্দ্র রায়।  শোনা যায় মোহিনী মোহন বর্মণও মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে ছিলেন। নেহেরু নির্দেশে বিধান রায় মুখ্যমন্ত্রী হন। কয়েক মাসের মধ্যে মোহিনী মোহন বর্ণকে তাঁর কলকাতার আবাসস্থলে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী কে? আসামী ধরা পড়েছিল কী না , তাদের কী বিচার হয়েছিল ?  সঠিক তদন্ত হয়েছিল কী না সবই অজ্ঞাত বা সে সময়ের ওপেন সিক্রেট।  

 রায়গঞ্জের শ্যামাপ্রসাদ বর্মণ পরবর্তী কালে পশ্চিমবঙ্গের মন্রী হয়েছিলেন।  

১৯৪৭ সালের পর   তথাকথিত এই ক্ষত্রিয়সকলেই কংগ্রেস পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৪৭ এর পর পঞ্চানন সরকারের প্রধান শিষ্য উপেন্দ্রনাথ বর্মণ কংগ্রেসে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতি এবং রাজ্য রাজনীতিতে  মনোনিবেশ করেন। ১৯৪৯ সালে কৌশলে দেশীয় রাজ্য কোচবিহারকে  প ব - র অন্তর্ভূক্তি করান । যে কাজের জন্য আজও উপেন বুড়া এলিয়াস উপেন্দ্রনাথ বর্মণ। রাজবংশী সমাজে নিন্দিত।

প্রশ্ন হল - মোহিনী মোহন বর্মণ হত্যা কাণ্ড নিয়ে শ্যামাপ্রসাদ এবং উপেন বর্মণের নীরবতার কারণ আজও জানা যায়নি।  ক্ষত্রিয় সমিতিও মুখে কুলুপ এঁটেছিল কেন তার উত্তর পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি কোচবিহার জেলায় রাজনৈতিক হিংসার বলির বিরুদ্ধে মৌনব্রত পালন করেছিল। উপেন বাবুর আত্মজীবনীতে তাঁর পরিবারের সেকাল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের আত্ম প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো উল্লেখ করেননি।

এই হল তৎকালীন মেরুদণ্ডহীন ক্ষত্রিয় নেতাদের বৃত্তান্ত....  সোকল্ড  রাজবংশী ক্ষত্রিয় (Rajbanshi Kshatriya) নাম ধারীরা ব্রিটিশ যুগেই নিজের কৃষ্টি ভাষা ইতিহাস জাতিসত্তা  থেকে বিচ্ছিন্ন।  এখনো পূর্ণিয়া, রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, শিলিগুড়ি, কোচবিহার কলিকাতা, দিল্লি, দেশের বাইরে,  এই জাতীয় সুতুলি ধারীদের মূল স্রোতের  কোচ রাজবংশী সমাজের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ রাজবংশী সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সুবিধা আদায় করে প্রতিটি ক্ষেত্রে।  ১৯৪৭ সাল থেকে বৃহৎ রাজবংশী সমাজের চাওয়া পাওয়া,  লাঞ্চনা বঞ্চনা, হৃতগৌরব উদ্ধার, ন্যায্য অধিকার আদায়ের বিরুদ্ধে আজও ক্ষমতাসীন সরকার বাহাদুরের  পক্ষ নিয়ে  বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কোনো বিশ্ব বিদ্যালয়ের  ক্ষত্রিয় নামধারী অশিক্ষক কর্মচারী পরবর্তী কালে জনপ্রতিনিধি নিজের গৌরবময় ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ভুলে নিজের সমাজকে দলিত বানিয়ে দিলেন!!!!!!  দলিত বর্গের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে দিলেন!!!!  কোচ তাঁর কাছে ঘৃণ্য হলেও দলিত  পরিচয় গৌরবের।!!!!   ভারতে কোনো দলিত জাতির (,দোসাধ, পাসোয়ান, মুচি, চর্মকার, মেথর, বাদী, বাগদী, দুলে, ইত্যাদি) স্বতন্ত্র গৌরবময় ইতিহাস আছে কী ?  উন্নাসিক ক্ষত্রিয়দের  কী এই হাল?  অবনমন!

September 23, 2022

কোচবিহার ডেভলপমেন্ট ফান্ড কমিটি অস্তিত্বহীন! Non Existent of Coochbehar Development Fund Committee.

Coochbehar development fund

কোচবিহার ডেভলপমেন্ট ফান্ড কমিটি অস্তিত্বহীন! Coochbehar Development Fund Committee non existent. 


নাটাবাড়ির বিধায়ক মাননীয় মিহির গোস্বামীর (Mihir Goswami - MLA Natabari) আশঙ্কা যে কোচবিহার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড কমিটি (Coochbehar Development Fund Committee) অস্তিত্বহীন যা মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ দিয়ে গেছেন। এই মর্মে তিনি একখানি চিঠিও লিখেছেন কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (Coochbehar District Magistrate) এর কাছে। কি ভাবে বা কোন খাতে এই টাকা খরচ হয়েছে তার কোনো হদিস নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা ব্যানার্জিকেও এই নিয়ে বিঁধেছেন তিনি। 

মিহির বাবুর কথায় - 


"কোচবিহারের প্রজাবৎসল মহারাজা শ্রী জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ বাহাদুর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কোচবিহার রাজ্যের ভারত ভুক্তির সময় তার রাজ্যের প্রজাদের জন্য প্রায় দু'কোটি টাকা দান করে গিয়েছিলেন। ব্যাংকে গচ্ছিত সেই টাকার সুদ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ কোচবিহারবাসীর কল্যানে খরচ করার জন্য বিগত রাজ্য সরকারের আমলে "কোচবিহার ডেভলপমেন্ট ফান্ড কমিটি" নামে একটি সরকারি কমিটি  গঠিত হয়। জেলার মন্ত্রী পদাধিকারবলে সেই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করতেন। জেলার বিধায়ক গণ ওই কমিটির সদস্য থাকতেন। 

জেলা শাসক ছিলেন ওই কমিটির সদস্য সচিব। প্রতিবছর অর্জিত সুদের অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে জনগণের কল্যাণে খরচের জন্য জেলার সমস্ত বিধায়কদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো।
কোচবিহার ফান্ড মিহির বাবুর চিঠি


ভাবলে অবাক হতে হয়, গণতন্ত্রের পূজারী তৃণমূল কংগ্রেস  এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের অন্যান্য অজস্র গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মত ওই কমিটিকেও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। গত এগারো বছরে ওই কমিটি আছে কি নেই জেলার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হচ্ছেনা। ওই কমিটির এখন আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে কি নেই  সে বিষয়েও জনগণ সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

 কোচবিহারের মহারাজার রেখে যাওয়া ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ বর্তমানে কে বা কারা কিভাবে খরচ করছেন, জেলার সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও সেই খবর জানার কোন অধিকার নেই। রাজ্য সরকারের এই স্বেচ্ছাচার কোচবিহারের মানুষ আর কতদিন মেনে নেবেন। এরপর কি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে গণতন্ত্রের পূজারী হিসাবে দাবি করতে পারেন!

September 20, 2022

মোরগ দাদু মঙ্গলাকান্ত রায় - সারিন্দাবাদক । Morog Dadu Mangalakanta Roy, Sarinda / Sarinja Player

 
mangalakanta roy sarinda player

সারিন্দাবাদক / সারিঞ্জা বাদক মোরগ দাদু মঙ্গলাকান্ত রায়। Morog Dadu Mangalakanta Roy, Sarinda Player


কামতাপুরের অধিবাসী সারিন্দাবাদক (সারিঞ্জা বাদক)  মঙ্গলাকান্ত রায়ের (Mangalakanta Roy, Sarinda / Sarinja Player) হাতের সারিন্দায় হামেশাই নানা পশুপাখির ডাক শুনতে পাওয়া যায় যা শ্রোতাদের অতীতকাল থেকে মুগ্ধ করে এসেছে। এর সুবাদেই তিনি ‘মোরগ দাদু' (Morog Dadu) নামে পরিচিত। মঙ্গলাকান্ত রায়ের জন্ম ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি এলাকায় (Gadhearkuthi, Dhupguri)। বর্তমানে ময়নাগুড়ির আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ি গ্রামে নিজে বাড়ি করে বসবাস করছেন এবং ওঁনার বয়স ১১৬ বছরের কাছাকাছি। 

ছোটবেলাতেই তিনি বাবা-মাকে হারিয়েছেন। সেই অসহায় অবস্থায় তিনি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দু’মুঠো খাবার খেয়ে জীবন কাটাতেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে খমক বাজাতেন বাড়িতেই। টলমোহন অধিকারী নামে এক ভিক্ষুকের সারিন্দা বাজানো দেখে এবং বাজনার সুর শুনে তিনি মুগ্ধ হয়ে পড়েন। নিজের কিছু জিনিস বিক্রি করে পাঁচ টাকায় মঙ্গলাকান্ত বাবু একটি সারিন্দা কিনেছিলেন। সারিন্দা কীভাবে বাজায় তা শেখার জন্য অন্ধক নামে এক সারিন্দাবাদককে গুরু বানিয়েছিলেন। পশুপাখির ডাককে কীভাবে সারিন্দায় তুলতে হয় তা ওঁনার কাছ থেকেই শিখেছেন। 

সারিন্দাবাদক সূত্র ধরেই উত্তরবঙ্গ তথা কামতাপুরের (Kamatapur) নানা জায়গা থেকে অনুষ্ঠানের বরাত পাওয়া শুরু।  ৯০ বছর বয়স পার করার পর দিল্লির প্রগতি মঞ্চে তিনি অনুষ্ঠানের ডাক পান। সারিন্দা বাদ্যযন্ত্রে তাঁর বাজানো মোরগের ডাক দিল্লীর দর্শক-শ্রোতাদের খুবই মুগ্ধ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৭ সালে দার্জিলিংয়ের এক সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে সন্মানিত করেছেন৷
............
Collected from youtube.com

Read in English-


Mangalakanta Roy, Sarinda / Sarinja Player, a native of Kamtapur, often hears the call of various animals on his Sarinda, which has enthralled the audience since time immemorial. Due to this he is known as 'Morog Dadu'. Mangalakant Roy was born in Gadhearkuthi area of ​​Dhupguri block. At present, he is living in Dholaguri village of Amguri village-panchayat of Mainaguri and he is now approximately 116 years old. 

He lost his parents in childhood. In that helpless condition, he used to spend his life by taking shelter in other people's houses and eating two handfuls of food. At the age of 20, he used to play Khamak at home. He was fascinated by seeing a beggar named Tolmohan Adhikari playing the Sarinda and hearing the melody. Mangalakant Babu bought a Sarinda for five rupees by selling some of his possessions. To learn how to play Sarinda, he took a Sarinda player named Andhak as his guru. From him he learned how to pick up the calls of the animals.

According to Sarindabadak sources, started getting quotes of the program from various places in North Bengal namely Kamatapur. After crossing the age of 90, he got a call to perform at Delhi's Pragati Mancha. His playing of the Sarinda instrument, the rooster's call, enthralled the audience in Delhi. West Bengal Chief Minister Hon'ble Mamata Banerjee honored him with 'Banga Ratna' at an official function in Darjeeling in 2017.

September 13, 2022

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির চিঠি জহরলাল নেহেরুকে কুচবিহারকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত করার ব্যাপারে। Letter from Shyamaprasad Mukherjee regarding Coochbehar merge with West Bengal.

Shyamaprasad mukherjee letter on coochbehar

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির চিঠি জহরলাল নেহেরুকে কুচবিহারকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে মার্জ করার ব্যাপারে। (হিতসাধনী সমিতিকে কালিমালিপ্ত করে!)

Letter from Dr. Shyamaprasad Mukherjee to Pandit Jaharlal Neheru regarding merger of Coochbehar State with West Bengal. 

(চিঠির কিছুটা অংশ বাংলায় অনুবাদ করলাম থেকে)


[সবাই পড়ুন, জানুন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন যদি #আত্মমর্যাদা বোধ থাকে।]


28th December 1949


"আমার প্রিয় জওহরলাল,


কোচবিহার এবং বিন্ধ্যপ্রদেশ সম্পর্কিত আপনার 27 ডিসেম্বরের চিঠির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।


 আমি মন্ত্রিসভায় অবস্থানটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি, এবং আমি আশা করি এখন আমার জন্য এই বিবরণগুলিতে আবার যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মেনন (VP Menon) যেমন আপনাকে বলেছেন, কোচবিহারের প্রশ্নটি কিছুদিন আগে আপনার কাছে উল্লেখ করা হয়েছিল - সম্ভবত এটি  আপনার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। সেই ব্যাপারে আমি আপনাকে আবার উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করিনি, যদিও একটি পাবলিক ঘোষণার আগে এটি মন্ত্রিসভায় উল্লেখ করার খুব ইচ্ছা ছিল। কোচবিহারের জনগণের সাথে পরামর্শ করার বিষয়ে, আমি ইতিমধ্যেই বলেছি যে স্থানীয় কংগ্রেস একীভূতকরণের (merger) অনুমোদন দিয়েছে। একটি স্থানীয় হিতসাধিনী সভা রয়েছে, যেটি আংশিকভাবে মুসলিম যার সহানুভূতি রয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিবেশী অঞ্চলের সাথে এবং আংশিকভাবে পাহাড়ি উপজাতির কিছু সদস্য নিয়ে গঠিত যারা "উত্তরাখণ্ড প্রদেশ" গঠনের জন্য সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি নিশ্চিত বোধ করি যে এই ধরণের সংস্থাকে এর দুষ্টু প্রবণতায় উত্সাহিত করার জন্য আমাদের কিছুই করা উচিত নয়।"


........ আলোচনার বিষয়বস্তু...... 

1। আপনাদের কি মনে হয় হিতসাধনী সমিতি কুচবিহারকে সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ করার জন্য আন্দোলন করছিল? যে সমিতিকে কালিমালিপ্ত করে আলাদা রাজ্যের পরিকল্পনা বানচাল করাই ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির উদ্দেশ্য।  আমরা সবাই জানি  28th আগষ্ট 1949 কুচবিহার রাজ্যের ভারত ভুক্তি চুক্তি হয়েই গেছে এবং 12 সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। সেখানে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রশ্নই ছিলনা। 


2। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের কি বক্তব্য?

Shyamaprasad letter to neheru 1

Shyamaprasad letter neheru 2


September 12, 2022

Photographs of Coochbehar State Land Deeds

 Some photographs of Coochbehar State Land deeds during reign of Maharaja Nripendranarayan and Maharaja Jagaddipendra Narayan. (Collected from FB Friends) 

Coochbehar state deed nripendranarayan

Coochbehar state khatian

Jotdar land coochbehar

Coochbehar land dakhila

Tax slip coochbehar state

Stamp paper coochbehar state

Coochbehar state deed Jagaddipendra

Coochbehar state certificate

কুচবিহার রাজ্যের ভারতের অন্তর্ভুক্তি। Coochbehar State merge with Indian Dominion

12th September Jagaddipendra letter


আজকের দিনে (১২ই সেপ্টেম্বর) সরকারিভাবে কুচবিহার রাজ্য (Coochbehar State) ভারত ডোমিনিয়নের (lndian Dominion) অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে। ২৮ আগস্ট ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্জার  চুক্তি অনুযায়ী কুচবিহাররাজ জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ন (Maharaja Jagaddipendra Narayan) ভূপবাহাদুর তার শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং তিনি তার প্রজাগণের উদ্দেশ্যে, তাদের মঙ্গল কামনায় তার কয়েকটি মূল্যবান কথা বলেন। 

প্রসঙ্গত,১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ ভারতের স্বাধীনতা দিবস হলেও, কুচবিহার রাজ্য তার দুবছর পর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

@Kumar Mridul Narayan